রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নতুন সরকার এলেও বাংলাদেশ–চীন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Racing Comilla - Bangladesh-China cooperation will continue even after new government comes into power-Chief Advisor
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক করেন/ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও দুই দেশের মধ্যকার চলমান প্রকল্প ও উদ্যোগগুলো অব্যাহত থাকা জরুরি।

চীন–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া চীনা প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পনেতারা।

সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আজ শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তাঁরা জানান, অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি (PCV) ও এইচপিভি (HPV) টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। ওয়ালভ্যাক্সের যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়াতেও স্থানীয় অংশীদারিত্বভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্পবিষয়ক সহ-সভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজারবিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।

বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের মতবিনিময় হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তীতে চীন সেই ধারণা অনুসরণ করে নিজস্ব কর্মসূচি চালু করেছে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস জানান, প্রেসিডেন্ট তাঁকে বলেছেন যে তিনি তাঁর লেখা বই পড়েছেন এবং সেখানে উল্লেখিত নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন।

স্বাস্থ্য খাতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর সংযোগ স্থাপন, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

পাশাপাশি ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ তখন লাভ করছিল—এটি ছিল লজ্জাজনক।

এ সময় তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি আধুনিক ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। সেখানে এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ সব স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এক জায়গায় থাকবে। এতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকার ও প্রতিনিধিদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন