
জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই এবং দেশে তেলের কোনো অভাব নেই। ৯ মার্চ আরও আসছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার প্রধানের তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল রবিবার (৮ মার্চ) থেকে আমরা মোবাইল কোর্ট নামিয়ে দেব। সংকটের কোনো সুযোগ নেই। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। সেহেতু রেশনিং করা।
মন্ত্রী আরও বলেন, তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এবং আগামী ৯ তারিখে আরও দুটি ভেসেল আসছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জন্য এবং স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি উদ্বিগ্নতা মানুষের মধ্যে বেড়েছে তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমরা রেশরিংটা করেছি এই জন্যই যে, একটা অনিশ্চয়তা আছে। যুদ্ধটা কতদিন চলবে? সেই জন্য আমরা একটা রেশন করেছি। কিন্তু মানুষ এই রেশনটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই। শুধু তাই না, আগামী ৯ মার্চ তারিখে আরও ২টা ভ্যাসেল আসছে, সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, বিশেষ করে মিডিয়ার কাছে অনুরোধ করব জনগণকে এই মেসেজটা দেওয়া যে, তাড়াহুড়া করে তেল কেনার দরকার নেই। আমাদের কাছে মজুদ আছে। আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছি এবং চলবে। এটা এটার জন্য লাইন দিয়ে সারারাত জেগে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষ গেলে তেল পাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাম্প ম্যানেজমেন্ট আছে, আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছি। এখন কোনো পাম্প যদি জলদি বিক্রি করে ফেলে তারপরে তো আর ওই দিন তেল পাবে না। তার পরের দিন ওয়েট করতে হবে। সেটার জন্য আমরা মনিটর করছি। আমরা দেখব যাতে এরকম কম হয়, সে বিষয়টা দেখব। আমরা কালকে থেকে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত নামানো হবে। সব রকমের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।
মোটরসাইকেলে বর্তমানে যে দুই লিটার করে তেলের রেশনিং করা হচ্ছে, তাতে চালকদের একদিন পরপরই পাম্পে যেতে হচ্ছে-এর পরিমাণ আরেকটু বাড়ানো যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, না, বাড়ানো সম্ভব নয়। আগেই বলেছি পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু যুদ্ধ কবে থামবে, তা আমরা কেউ জানি না। তাই আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সঞ্চয় রাখতে হবে। মূলত সেই সঞ্চয়টাই করছি সুতরাং আমাদের ঘাটতি পড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবুও যেহেতু যুদ্ধ চলছে, আমাদের খুব হিসাব করে চলতে হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। তেল সংকটে বন্ধ রয়েছে কোনো কোনো পাম্পও।








