
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স, সেবার মান, অবকাঠামো ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ যাচাই করে অননুমোদিত ও নিয়মবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (আবদুল্লাহ)। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিও লেটারটি প্রকাশ পাওয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়ে।
ডিও লেটারে এমপি মো. আবুল হাসনাত (আবদুল্লাহ) উল্লেখ করেন, দেবিদ্বার উপজেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান, বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
তিনি বলেন, রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন প্রয়োজন।
ডিও লেটারে দেবিদ্বারের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স বা নিবন্ধন, অনুমোদন, নির্ধারিত জনবল, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সেবার মান যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে, কোথায় কী ধরনের অনিয়ম রয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত বা গুরুতরভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।
অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইন ও বিধি অনুযায়ী অননুমোদিত বা অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এমপি।
চিঠিতে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিদর্শন, মান যাচাই ও স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থার ওপর বর্তাবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ডিও লেটারের অনুলিপি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের শিশু মাতৃ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় লিপি আক্তার নামে এক প্রসূতির ইউরিনারি ব্লাডার কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেট ফেঁপে যাওয়ায় শনিবার বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেবিদ্বারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।










