মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর, ২০২৬

তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের ৫ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায়

বাসস

RisingCumilla - Directorate of National Consumer Rights Protection
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর/ছবি : সংগৃহীত

বাজারে পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৯৭টি বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে অধিদপ্তর। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৫ হাজার ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করতে অভিযানের সময় লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, অযৌক্তিক মজুত এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পণ্যের গুণগত মান, মেয়াদ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযানকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করে অধিদপ্তর। ভোক্তাদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য আদায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রচলিত আইন মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শুধু অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা এবং ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অনিয়ম চিহ্নিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলেই জরিমানা করা হয়। এসব অভিযান শুধু জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না; পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করা হয়।

মহাপরিচালক বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে বারবার জরিমানা করার পরও অনিয়ম অব্যাহত রাখলে ওই প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করে সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদেরও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকলেই কেবল একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও পড়ুন