সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি, কুমিল্লায় বসেছে ১৯৯টি

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - AI camera surveillance on Dhaka-Chattogram Highway
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা/ছবি: রাইজিং কুমিল্লা সম্পাদিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৮ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম চালু করবে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ১৯৯টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যামেরাগুলো যানবাহনের গতি, গতিপথ ও চলাচলের বিভিন্ন বিষয় শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। কোনো গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে, বেপরোয়া গতিতে চললে কিংবা অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যেও উদ্যোগটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী তিশা প্লাস বাসের যাত্রী রাকিবুল হাসান বলেন, মহাসড়কে অনেক সময় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকলে চালকেরা গতি নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রামগামী বাসের যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, ‘মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতি। চালক জানবেন যে তার গাড়ির গতিবিধি প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিতে রয়েছে। এতে চালকেরা আরও সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন।’

বাসচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এআই ক্যামেরা চালু হলে শুধু চালক নয়, গাড়ির মালিকরাও নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। অতিরিক্ত গতি বা অন্য কোনো আইন ভাঙলে সেটি শনাক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

আরেক বাসচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য অনেক সময় চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ক্যামেরার নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা থাকলে এই প্রবণতা কমতে পারে। তবে চালকদের পাশাপাশি মহাসড়কের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।’

সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব এক্সিডেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা কাজী আবদুর রাজ্জাক (রাশেদ) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘন শনাক্ত করা গেলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে ১৯৯টি ক্যামেরা রয়েছে।

তিনি বলেন, মহাসড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে হাইওয়ে পুলিশ।

আরও পড়ুন