
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। এ কারণে জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, দেশের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনো ঘাটতির শঙ্কা নেই।
শনিবার (২৮ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তাই সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এগুলো অবৈধভাবে মজুত করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনোভাবেই জ্বালানি তেল অবৈধভাবে সংরক্ষণ না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে তেল মজুতকারী বা বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকার জানায়, এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা থাকলেও দেশের চাহিদা পূরণে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ অবস্থায় অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কেউ যেন অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত না করেন, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এই ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেবে। অন্যদিকে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ অধীনস্থ পেট্রোল পাম্পের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করবেন।
এ ছাড়া জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু অসাধু চক্র অননুমোদিতভাবে তেল মজুতের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।








