
কুমিল্লায় রেলপথের লেভেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। গেটঘরে দায়িত্বে থাকা গেটম্যানদের ঘুমিয়ে পড়া ঠেকাতে সেখান থেকে চৌকি ও অন্যান্য আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার একটি লেভেলক্রসিং গেটঘরের চৌকি ও অন্যান্য আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলতে দেখা যায়।
জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গেটম্যানরা দায়িত্ব পালনের সময় গেটঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে করে ট্রেন চলাচলের সময় গেট বন্ধ করতে দেরি হয় বা অবহেলা ঘটে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
এই ঝুঁকি কমাতে এবং গেটম্যানদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। গেটঘরে বসে বা শুয়ে বিশ্রামের সুযোগ কমিয়ে দিয়ে তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে এবং সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
উল্লেখ্য ,কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অরক্ষিত ও অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংগুলো দিন দিন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকলেও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব ক্রসিং ব্যবহার করছেন।
সর্বশেষ গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরের দিকে যাওয়ার পথে মামুন স্পেশাল পরিবহণের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন। এ ঘটনার পরই দেশজুড়ে আলোচনায় নড়েচড়ে বসেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।









