বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Gas explosions in Comilla and Chittagong- Health Minister orders to provide maximum treatment to those burned
কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর/ছবি: সংগৃহীত

 কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন, ছয়জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি, ভর্তি রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের চার জন এসেছেন। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে সোমবার একটি ঘটনা ঘটেছে এবং মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদেরকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ:

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের হালিশহরে ৬ তলা আসবাসিক ভবনে গ্যাস লাইন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা জাতীয় বার্ণ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এতে দগ্ধদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হলো।

এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্বামী সামির আহমেদ , স্ত্রী পাখি আক্তার, সামিরের ভাবি নুরজাহান বেগম ও তার ছেলে শাওন। বর্তমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন একই পরিবারের আরও ৪ জন। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামরে হালিশহরে এইচ ব্লকে সেহেরির সময় ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লাইনে জমে থাকা গ্যাস থেকে বা অসাবধানতা বসত রাতে চুলা বন্ধ না করায় এ বিস্ফোরণ হয় বলে দাবি ফায়ার সার্ভিসের। এসময় প্রচন্ড শব্দে কেঁপে উঠে পুরো এলাকা। ভবনটির ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় উড়ে যায় দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র।

এছাড়া তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট দেড় ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় দ্বগ্ধ হোন তিন শিশুসহ একই পরিবারের ৯ সদস্য। চিকিৎসার জন্য তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও পরে ঢাকার জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়।

কুমিল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ:

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) গ্রামে  গ্যাস সংযোগ থেকে লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন- মনোয়ারা বেগম (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম (৩)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।

পরে সকাল ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ছয়টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারী শিশুসহ একই পরিবারে চারজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, জিল হকের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে– তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মনোয়ারা বেগমের শরীরের ২ শতাংশ এবং শিশু হুররামের ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন