মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬

কার্ডের মাধ্যমে সার-বীজ সরাসরি পাবেন কৃষকরা: সংসদে কৃষিমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Farmers will receive fertilizer and seeds directly through cards-Agriculture Minister in Parliament
কার্ডের মাধ্যমে সার-বীজ সরাসরি পাবেন কৃষকরা: সংসদে কৃষিমন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সার ও বীজ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ-এর টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কৃষিকাজে সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক (প্রি-পাইলটিং) পর্যায়ে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মোট ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার কৃষকপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এই কর্মসূচিতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

কৃষিখাতে ভর্তুকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ এবং ইক্ষুসহ বিভিন্ন খাতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে।

সার সরবরাহের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের কাছে সফলভাবে সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে কৃষিপণ্য সংরক্ষণে অবকাঠামোগত উন্নয়নও অব্যাহত রয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণের জন্য দেশে ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন