সোমবার ৩ আগস্ট, ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি শুরু, প্রথমবার চালু হলো অনলাইন ট্রান্সফার ব্যবস্থা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - School Teacher and Student
ছবি : সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য বদলি (ট্রান্সফার) কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এখন থেকে একই পদে শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে বদলির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা।

এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। এই নীতিমালা দেশের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষকরা অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলেই একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদন করতে হলেও সেখানে কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তার চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের যেকোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতিতে দূরত্ব নির্ধারণ করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষককে বদলি করা হবে না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

পুরো বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ওপর। বদলির পর শিক্ষকের এমপিও, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

তবে নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলি কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে গণ্য হবে না। বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা দেওয়া হবে না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, “যত শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন কেবল নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”

আরও পড়ুন