শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

‘এমন কোনো পণ্য নেই যা নকল হয় না’: ক্যাব সভাপতি

রাইজিং ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

দেশে এমন কোনো পণ্য নেই যা নকল হয় না বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এই সভার আয়োজন করে।

ক্যাব সভাপতি বলেন, দেশে কোনো পণ্য কেনার আগে আমরা ভাবি যে এটি আসল নাকি নকল। বিদেশে গেলে আমরা এমন ভাবি না যে কোনো পণ্য নকল কি না। দেশে এমন কোনো পণ্য নেই, যা নকল হয় না। কিন্তু এ দেশে বিদেশের মতো সবই আছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে।

তিনি বলেন, একটা শিল্পপ্রতিষ্ঠান করতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। সেই প্রতিষ্ঠানে যে তার (ক্যাবল) ব্যবহার করা হয়, তাতে এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর ও চার নম্বর মানের তার আছে। সেই নকল তারে যখন রাতের বেলা বিদ্যুতের লোড নিতে না পেরে আগুন ধরে যায়, তখন সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা কাজ হারান।

‘তবে দেশে যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী, বেসরকারি খাত- তারা খুব ভালো করছেন। তাদের পণ্যের সুরক্ষা আমাদের দিতে হবে।’

ক্যাব সভাপতি বলেন, আবার আমাদের দেশের অনেকের বেসরকারি খাত নিয়ে নেতিবাচক ধারণা। সেটা পাল্টাতে হবে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তারা করছে। সরকারি পলিসি মেকারদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দূরত্ব না কমলে আমরা কখনো এগিয়ে যেতে পারবো না।

তিনি আরও বলেন, বিএসটিআইকে দ্রুত পণ্যের মান প্রণয়ন করতে হবে। পণ্যগুলো পরীক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আরও বলেন, দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি হালাল পণ্যের পরীক্ষাগার আছে। আমি নিজে সেই ল্যাব পরিদর্শন করেছি। উপজেলা পর্যায়ের একটা কলেজের রসায়ন বিভাগের পরীক্ষাগারে যেমন ধুলাবালি পড়ে থাকে, সে রকম একটা পরীক্ষাগার। সেখানে উৎপাদিত পণ্যের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করার ক্ষমতা নেই। তবে বিশ্বের হালাল পণ্যের বাজারে রপ্তানি শুরু করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা ওজনে কম দেওয়া ও কারসাজিতেও চ্যাম্পিয়ন। কতিপয় ব্যবসায়ী ভোক্তাদের জিম্মি করে ব্যবসা করেন। রমজান এলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ১১ মাসের লাভ তুলতে চান এক মাসেই, এসব অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, এদের প্রতিরোধ করতে হবে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য আবদুল হাসিব চৌধুরী।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স মো. জাফর ইকবাল।

আরও পড়ুন