শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করবেন যেভাবে, জেনে নিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla -How to register land acquired through inheritance- learn about the required documents
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা হালনাগাদ করতে নামজারির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। পৈতৃক জমির নামজারি করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং জমির রেকর্ডের সঙ্গে মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা কমানো সম্ভব।

নামজারি হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ এবং জমির বিদ্যমান রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নামজারির আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে, জমির রেকর্ডের ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—

১. নিবন্ধিত দলিলের কপি: ক্রয়সূত্রে জমির মালিকানা অর্জিত হলে সংশ্লিষ্ট দলিলের কপি।

০২. আগের খতিয়ানের কপি: জমির বিদ্যমান খতিয়ান বা সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডের কপি।

০৩. জমির বিস্তারিত বিবরণ: মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য।

০৪. জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারী ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।

০৫. ওয়ারিশ সনদ: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে বৈধ ওয়ারিশদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য।

০৬. মৃত্যুসনদ: সংশ্লিষ্ট জমির পূর্ববর্তী মালিকের মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

০৭. নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশদের মধ্যে জমি বণ্টন করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রযোজ্য নথি।

০৮. অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: সরকারি ফি পরিশোধের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি।

অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-নামজারি সেবায় আবেদন করা যায়। এ জন্য সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।

প্রথম ধাপ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd -এ প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবা নির্বাচন করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: জমির মালিকানা কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: ওয়ারিশ সনদ, খতিয়ান এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কাগজপত্র নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা জানার জন্য আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিতে হবে।

আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো। নথিপত্রের যথার্থতা, জমির ধরন এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।

আরও পড়ুন