মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla -Announcement of 10 million Taka for the development of Abu Sayeds home and graveyard.
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা/ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে তার বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আবু সাঈদ আমাদের অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগ তরুণ সমাজ, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্দোলনের অনুপ্রেরণা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনে সারা দেশের লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল।’

তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্যও এটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি জানান, আবু সাঈদের বাড়ির উন্নয়ন, নতুন ঘর নির্মাণ, মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত ১ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া রংপুর স্টেডিয়াম শহীদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান মীর শাহে আলম। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির বিরোধিতা করে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও কোনো অপতৎপরতা কাজে আসবে না। সরকার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দিতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান মীর শাহে আলম।

আরও পড়ুন