শনিবার ৪ এপ্রিল, ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে, সামনে আরও উন্নতি হবে: প্রেস সচিব

রাইজিং ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে এবং সামনে আরও উন্নতি হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

শফিকুল আলম বলেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখছি, স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। হঠাৎ করে একটা-দুইটা জঘন্য খুন দেখে অনেকে আঁতকে উঠছেন, বলছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমি আপনাদের বলব পরিসংখ্যান দেখেন।”

তিনি উল্লেখ করেন যে পুলিশের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। তিনি বলেন, গত এক বছরে পুলিশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা জাতিসংঘের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে বলেও তিনি জানান।

প্রেস সচিব বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, বিচার বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের প্রতিটি খাতে গত এক বছরে ব্যাপক কাজ হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের বড় একটা সাফল্য স্থিতিশীলতা আনা। ভয়ংকর রকমের একটা দুর্যোগ থেকে একটি দেশকে স্থিতিশীলতায় আনা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ। এই সরকার সেটা করতে পেরেছে।”

তিনি প্রফেসর ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সরকার দেশকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে এসেছে। মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা কমানো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ছিল। টাকা-ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে এবং রিজার্ভও বাড়ছে, যার পেছনে প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের বড় ভূমিকা রয়েছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, এনবিআর ও বিডাতে (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সংস্কার আনা হয়েছে, যার সুফল জনগণ এবং বিনিয়োগকারীরা সামনে পাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী সরকারের আমলে বিদেশ থেকে ভালো বিনিয়োগ আসবে।

প্রেস সচিব বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি বিতর্কিত আইন, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি এটিকে “বাংলাদেশের মহাচুরির বন্দোবস্তের একটি আইন” হিসেবে অভিহিত করেন। এই আইনকে ব্যবহার করে লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে, যেখানে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া বা আইনের প্রতি ন্যূনতম নজর ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মধ্যেই এই আইন বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা কতটুকু সফল, কতটুকু ব্যর্থ আপনারা বিচার করবেন। কিন্তু আমার মনে হয়, আমরা যেন এক ভয়ানক ভূমিকম্পে… মানে ভূমিকম্পে যেমন একটা দেশ ছারখার হয়ে যায়, সেরকম একটা দেশকে আমরা পেয়েছি। সেই জায়গায় এই সরকার চেষ্টা করেছে, দেশটাকে আবার গ্রোথের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। সেই জায়গায় আমি মনে করি এই অন্তর্বর্তী সরকার খুবই সফল।”

সব মন্ত্রণালয়েই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরও সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন