শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬

তথ্য কমিশন গঠনে অনীহায় সরকারের ব্যর্থতা: টিআইবির সমালোচনা

রাইজিং ডেস্ক

জাতিসংঘে বিশাল প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে কর্তৃত্ববাদী চর্চার পুনরাবৃত্তি: টিআইবি

কর্তৃত্ববাদের পতনের পর থেকে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে তথ্য কমিশন গঠন না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য, স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত এবং স্বাধীন ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও তথ্য কমিশনকে কার্যকর করা এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সুপারিশ ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য সত্ত্বেও সরকারের দৃশ্যমান উদাসীনতা দুঃখজনক এবং এটি সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা।

তিনি আরও জানান, কমিশন না থাকায় জনগণ তথ্য চেয়ে আবেদন করলেও অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে না। তথ্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ তথ্য অধিকার আইন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তথ্য গোপন ও স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ না করার সংস্কৃতি বহাল রয়েছে।

ড. জামান উল্লেখ করেন, তথ্য অধিকার আইন ও কমিশন থাকলেও কর্তৃত্ববাদী সরকারের সদিচ্ছার অভাব, কার্যকর উদ্যোগের অনীহা এবং দলীয় আনুগত্যশীল কমিশনারদের কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কোনো উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি।

সংগঠনটি তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— তথ্য অধিকার আইন যুগোপযোগী সংস্কার, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা, বাক্‌স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের অধিকার রক্ষায় তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি কাঠামো বিলুপ্তি এবং তথ্যপ্রবাহ সহজ করতে ডিজিটাল টুলস ও অবকাঠামো উন্নয়ন।

আরও পড়ুন