সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৫ সালে সৌদি আরবে সাড়ে সাত লাখ কর্মী পাঠাল বাংলাদেশ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

বাংলাদেশ-সৌদি আরব/ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একক দেশে এক বছরে সর্বোচ্চ জনশক্তি পাঠানোর রেকর্ড। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন। তারা প্রতি বছর দেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। ১৯৭০–এর দশক থেকে সৌদি শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে দেশটিতে সর্ববৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশিরা।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। গত বছর বিদেশে যাওয়া মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন।

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন আরব নিউজকে জানান, ‘গত বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী সৌদি আরবে গেছেন। কোনো নির্দিষ্ট বছরে সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশে এত বেশি কর্মী আগে পাঠানো হয়নি।’

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার হার বেড়েছে ১৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে কাজের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে সৌদি শ্রমবাজারে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালু করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে দেশে সৌদি অনুমোদিত সার্টিফিকেশন সেন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ, দক্ষ ও নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি করা। গত এক বছরে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র তিন থেকে চার মাস আগেও মাসে এক হাজার দক্ষ কর্মী সার্টিফাই করা যেত। এখন সারা দেশে ২৮টি সৌদি অনুমোদিত কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার দক্ষ কর্মীকে সৌদি শ্রমবাজারের জন্য সার্টিফাই করা সম্ভব হচ্ছে।’

চলতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বিএমইটি খনিশিল্পে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সৌদি আরবের খনি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আশরাফ হোসেন বলেন, ‘সৌদি আরব একটি তেল ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দেশ। সেখানে দক্ষ খনি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রকৃত অর্থেই দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে কাজ করছি।’

এদিকে গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি নতুন কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা, সময়মতো মজুরি পরিশোধ, কল্যাণ সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে নির্মাণ খাতসহ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতাধীন বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি ২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ তিন লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন