বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Bangladesh Haor and Wetland Development Department
হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার/ছবি: কোলাজ রাইজিং কুমিল্লা

দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হাওর বা জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অধ্যাদেশে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জারিকৃত ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় বেশ কয়েকটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি উত্তোলন, মাটি, বালু ও পাথর আহরণ, পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন বিনষ্ট ও বিষটোপ বা কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা।

এসব কর্মকাণ্ডকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধিদপ্তর যাচাই করবে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও স্থানীয় জনগণের জীবিকার ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে অধিদপ্তর।

সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন