রবিবার ৪ অক্টোবর, ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে নজরদারি বাড়ছে, তদারকিতে মাঠে নামছেন ৫৪ কর্মকর্তা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Ministry of Health and Family Welfare
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হাসপাতাল পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেনারেল, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত জেলা, উপজেলা ও হাসপাতাল পরিদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি পরিদর্শন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের জনবল, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাওয়া সমস্যা ও ঘাটতি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। এ-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিবেদনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রমসহ জনস্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উদ্ভাবনী ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। ওই প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত শাখায় পাঠাতে হবে। পরিদর্শনে পাওয়া সমস্যা, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসন, উন্নয়ন, বিশ্বস্বাস্থ্য, হাসপাতাল, জনস্বাস্থ্য, আর্থিক ও অডিট, বাজেট ও নার্সিংসহ বিভিন্ন শাখা থেকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় হাসপাতাল ও বিভাগভিত্তিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক তদারক কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুগ্মসচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তাকে জেলা হাসপাতালের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালও তদারক করতে হবে।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে কর্মকর্তাদের। পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাই এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে পালন করতে হবে। আদেশটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এ উদ্যোগের ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে হাসপাতাল পরিদর্শনের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্র, জনবল উপস্থিতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, অবকাঠামোগত সমস্যা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথও আরও সহজ হবে।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন