
সারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, সংসার কিংবা পড়াশোনার কারণে নিজের যত্ন নেওয়ার সময় পান না অনেকেই। এর প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। ধীরে ধীরে ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত। হারিয়ে যায় ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। তবে ত্বকের যত্ন নিতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিলেই গড়ে তুলতে পারেন সহজ একটি রূপচর্চার অভ্যাস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যা করা ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে সময় কাটানোর পরিবর্তে নিজের ত্বকের যত্নে কিছুটা সময় দিতে পারেন। জেনে নিন রাতের রূপচর্চায় যে পাঁচটি অভ্যাস রাখতে পারেন।
১. ক্লিনজিং দিয়ে শুরু করুন
সারাদিনে ত্বকে জমে তেল, ঘাম, ধুলাবালি ও ময়লা। বাইরে বের না হলেও ত্বকে এসব জমতে পারে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
প্রথমে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। মেকআপ করলে আগে মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং পণ্য দিয়ে তা তুলে ফেলুন। চোখের চারপাশ ও নাকের দুই পাশ পরিষ্কারের সময় বাড়তি যত্ন নিন। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখ মুছে নিন। মেকআপ বা সানস্ক্রিনের অবশিষ্টাংশ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই ধাপে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন।
২. সপ্তাহে এক-দুই দিন ব্যবহার করুন ফেসপ্যাক
প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে সপ্তাহে এক বা দুই দিন ত্বকের উপযোগী ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু, টক দই ও পাকা কলার মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
তবে নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। ফেসপ্যাক ধুয়ে ফেলার পর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।
৩. শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন ফেশিয়াল অয়েল
যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি ফেশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অর্গান অয়েল বা ভিটামিন ই-যুক্ত ফেশিয়াল অয়েল বেছে নেওয়া যেতে পারে।
তবে সব ধরনের তেল সব ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ ও সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো ফেশিয়াল অয়েল ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ত্বকের সঙ্গে মানানসই পণ্য নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ত্বকের সমস্যা বুঝে বেছে নিন সিরাম
ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা অনুযায়ী সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম সহায়ক। ত্বকের অসম রং ও কালচে দাগের যত্নে ভিটামিন সি এবং তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য নিয়াসিনামাইডযুক্ত সিরাম বেছে নিতে পারেন।
অন্যদিকে বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমানোর পরিচর্যায় রেটিনল ব্যবহার করা হয়। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুরুতে কম মাত্রা বেছে নেওয়া এবং সপ্তাহে অল্প কয়েক দিন ব্যবহার করা ভালো। ত্বকে জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতা দেখা দিলে ব্যবহার কমাতে বা বন্ধ করতে হবে। গর্ভাবস্থায় রেটিনল ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
৫. ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে শেষ করুন পরিচর্যা
রাতের রূপচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার। সিরাম লাগানোর পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
মুখের পাশাপাশি গলা ও ঘাড়েও ময়েশ্চারাইজার লাগান। হাত, পায়ের পাতা, হাঁটু ও কনুইয়ের মতো শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গাগুলোর যত্নও নিতে হবে।
প্রতিদিনের এই ছোট রুটিনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ভালো ঘুমও ত্বকের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, দামি প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যা বেশি জরুরি। প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটের সচেতনতাই হয়ে উঠতে পারে সুস্থ ও সতেজ ত্বক ধরে রাখার সহজ উপায়।
সূত্র: এনডিটিভি ও ভোগ।










