
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
শুক্রবার নবম ভারত মহাসাগরীয় কনফারেন্সে (আইওসি) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় অতিক্রম করছে। জ্বালানি সংকট এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও সমাজকে হুমকির মুখে ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশগুলোর উচিত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা, একে অপরের প্রয়োজনকে উপলব্ধি করা এবং সম্মিলিত সম্পদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পুরো কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারণাগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক এবং পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সর্বোত্তমভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, উন্নয়নমূলক অর্জনগুলো কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় এবং সংকটগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায়—তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সুপার সোর্সিং হাব’ গড়ে তোলার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। পাশাপাশি জেলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ তৈরিতে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়নের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাই তরুণ ও উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সক্ষমতা ও সুযোগগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সব খাতে উদ্ভাবন বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) নেতৃত্ব দেওয়ার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা এসব সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলো নতুন করে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।









