সোমবার ৫ অক্টোবর, ২০২৬

মিষ্টি খেয়েও ৩৫ কেজি ওজন কমালেন মল্লিকা, জানালেন ৩৫ অভিজ্ঞতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - Mallika lost 35 kg despite eating sweets, shares 35 experiences.
মিষ্টি খেয়েও ৩৫ কেজি ওজন কমালেন মল্লিকা, জানালেন ৩৫ অভিজ্ঞতা/ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই পছন্দের খাবার, বিশেষ করে মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মল্লিকা ফতেহপুরিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, ওজন কমানোর জন্য সব পছন্দের খাবার থেকে দূরে থাকা জরুরি নয়। বরং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, ক্যালরি সম্পর্কে সচেতনতা এবং দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা যায়—এমন অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৯০ কেজি থেকে ৫৫ কেজিতে ওজন কমানোর যাত্রায় নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ৩৫টি শিক্ষা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন মাল্লিকা। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

পছন্দের খাবার বাদ নয়, পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ

মল্লিকার মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বিস্বাদ খাবার নয়। পছন্দের খাবারও তুলনামূলক কম ক্যালরিতে তৈরি করা সম্ভব। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের পছন্দের খাবারকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তার অন্যতম আলোচিত বক্তব্য হলো—প্রতিদিন মিষ্টি খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। তবে এটিকে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রান্নায় তেল ও মাখনের ব্যবহার কমানো, মাপার চামচ দিয়ে উপকরণ ব্যবহার এবং খাবারের পরিমাণ নির্ধারণে ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন মল্লিকা। একই সঙ্গে বেশি ক্যালরির খাবারের তুলনামূলক কম ক্যালরির বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ১০ থেকে ১৫টি খাবার স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরির অভ্যাস গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।

‘চিট মিল’ জরুরি নয়

মল্লিকার মতে, প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় পুষ্টি উপাদানের তথ্য পড়ার অভ্যাস করা দরকার। কোনো খাবারকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বলা হচ্ছে বলেই সেটি ওজন কমাতে সহায়তা করবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ‘ক্যালরি ডেফিসিট’ বা শরীর যত ক্যালরি খরচ করে তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণের বিষয়টি বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

খাবারকে সবসময় ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে ভাগ করার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন মল্লিকা। তার মতে, আলাদা করে ‘চিট মিল’ রাখতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। কোনো একটি খাবার বা একদিনের পরিকল্পনাবহির্ভূত খাওয়ার কারণে কয়েক মাসের পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যায় না। এমন হলে পরের খাবার থেকেই আবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসা যায়।

ওজন কমানোর সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনও আসে

মল্লিকার অভিজ্ঞতায়, ওজন কমানোর সময় পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের নানা ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ হয়তো তাকে বেশি মোটা মনে করতে পারেন, আবার কেউ অতিরিক্ত রোগা বলেও মন্তব্য করতে পারেন।

তবে তার মতে, অন্যের পছন্দ অনুযায়ী শরীরকে ছোট বা রোগা করাই ওজন কমানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং নিজের শরীর নিয়ে সুস্থ ও ভালো অনুভব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ওজন কমানোর যাত্রা কেবল শারীরিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগের পরিবর্তনও জড়িয়ে থাকে।

ব্যায়ামে অনুপ্রেরণার চেয়ে নিয়মিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়াম নিয়েও নিজের ১১টি অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ শেয়ার করেছেন মল্লিকা। তার মতে, সবসময় শরীরচর্চা করার অনুপ্রেরণা থাকবে না। তাই অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।

ব্যায়াম করতে ভালোবাসতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম একেবারে কিছু না করার চেয়ে ভালো। ব্যস্ততার কারণে সময় কম থাকলে হাঁটাহাঁটিকেও শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

শরীরচর্চার জন্য নতুন পোশাক বা দামি সরঞ্জাম কেনা জরুরি নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষক বা পুষ্টিবিদের সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

ওজন কমানোর সময় আগের বড় মাপের পোশাকগুলোও সঙ্গে সঙ্গে ফেলে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মাল্লিকা।

নিজের পরিবর্তন নিয়ে গর্বিত হওয়া জরুরি

ওজন কমানোর পথে আয়নায় নিজেকে কোনো দিন ভালো লাগতে পারে, আবার কোনো দিন নিজের চেহারা নিয়েই খারাপ লাগতে পারে—এটিকে স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেছেন মল্লিকা।

তার মতে, এই যাত্রার পর একজন মানুষ শুধু শারীরিকভাবেই বদলে যান না; নিজের শরীর এবং নিজের সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসে। তাই নিজের অগ্রগতি নিয়ে গর্ববোধ করাও ওজন কমানোর যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

তবে মল্লিকার দেওয়া ৩৫টি শিক্ষা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ওজন কমানোর পরিকল্পনা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন