শনিবার ৭ নভেম্বর, ২০২৬

বেরোবির দুই শিক্ষকের আ.লীগ-জামায়াত সংশ্লিষ্টতা জানতে চেয়ে ইউজিসির চিঠি

বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস/ছবি: প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষকের আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। চিঠিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান মজনুর জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য কমিশনে পাঠাতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিনুর রহমানের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি দুই শিক্ষকের বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ড. তানজিউল ইসলাম জীবন শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখেছেন, তাঁর জন্মদিনে কেক কেটেছেন, এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে অভিযোগপত্রের সঙ্গে শেখ হাসিনার জন্মদিনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কেক কাটার ছবি, যৌন হয়রানির অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদপত্রের কাটিং এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা একটি প্রবন্ধ সংযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান মজনুর বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন এবং শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জোহা হলে থাকতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ক্যাডারকে প্রভাষক পদে নিয়োগের অভিযোগ’ শিরোনামের একটি সংবাদপত্রের কাটিং সংযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবন বলেন, ‘এসব বেনামা চিঠি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’

ড. মো. মনিরুজ্জামান মজনু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১২ সালে নিয়োগের ভাইভার পরও আমার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১৩ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। এখন সেই পুরোনো সংবাদ সামনে এনে আবারও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, শিবিরের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরি ছেড়ে ক্যাম্পাস থেকে চলে যাব। আর অভিযোগের সত্যতা না পেলে যারা এমন অভিযোগ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইউজিসির এই চিঠিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এতে দুই কর্মকর্তা আহত হন এবং তাঁদের শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। ঘটনার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী কক্ষে উপস্থিত থাকলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নীরব ছিলেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ইউজিসি যেহেতু বিষয়টি জানতে চেয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই ব্যাখ্যা দেব।’

এদিকে, ইউজিসিতে দুই শিক্ষকের বিষয়ে অভিযোগ পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিনুর রহমান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো চিঠি পাঠাননি।

আরও পড়ুন