
হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৮৮ ডলারে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০.৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার ইরান প্রণালী খুলে দেওয়ার খবরের পর দাম কমে গিয়েছিল।
তবে প্রণালী আদৌ কতটা খোলা ছিল এবং কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। শনিবার ইরান আবারও প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রকে “বিশ্বাসভঙ্গের” জন্য দায়ী করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রণালী বন্ধ ঘোষণার পর ইরানি গানবোটগুলো সেখানে চলাচলের চেষ্টা করা তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজের দিকে গুলি ছোড়ে, যা নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করা হয়। পরে “তৌসকা” নামের ওই জাহাজটি জব্দ করে US Central Command।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে “সশস্ত্র জলদস্যুতা” আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, রোববার কোনো তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেনি। উল্লেখ্য, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাতে একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে দুই দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪.০৫ ডলার। দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এ দাম দ্রুত কমে ৩ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম।
এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডাও জোন্স ফিউচার প্রায় ০.৯১ শতাংশ কমেছে, পাশাপাশি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচারেও পতন দেখা গেছে।









