রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬

প্রাথমিকে সারা দেশে বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - students
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকার। এবার সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)। অর্থাৎ এবারও বৃত্তি অর্জনে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি।

মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা রাখা হয়।

এছাড়া সাধারণ বৃত্তির মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ রাখা হয়। বাকি ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি উপজেলাভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।

মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।

পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫.১১ শতাংশ। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন (৬২.০১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪.১৬ শতাংশ) অংশগ্রহণ করে।

উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ) ছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশা, এই বৃত্তি কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, মেধার বিকাশ এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন