সোমবার ২ নভেম্বর, ২০২৬

নোয়াখালীতে মিলল নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, ২০ বছর গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - gas
প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি অনুসন্ধান কূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামের কূপটির দুটি পৃথক জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) কূপটিতে অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ভোক্তা পর্যায়ের হিসাবে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাপেক্সের পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কূপটি খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির বিজয়-১০ রিগ ব্যবহার করে চলতি বছরের ৮ জুলাই সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন সম্পন্ন করা হয়। কূপটির দুটি পৃথক স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। আগামী ২০ বছর পর্যন্ত এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কূপটিতে তেল কিংবা অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এসব পরীক্ষা শেষে কূপটির বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই গ্যাসকূপ দেশের জাতীয় জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন