মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬

নিম্নমানের সামগ্রী দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তার কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর

আশরাফুল ইসলাম, ববি প্রতিনিধি

নিম্নমানের সামগ্রী দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তার কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর
নিম্নমানের সামগ্রী দেয়ায় ববিতে বন্ধ হলো রাস্তার কাজ, ল্যাবে পাঠানো হলো পাথর/ছবি: প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাস্তার কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার (২৪ই মে) অভিযোগ ওঠে নিম্নমানের পাথর দিয়ে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-০১ এর সম্মুখের রাস্তা ঢালাই দেয়া হবে। এরপরে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিল্যান্স টিম এর প্রতিবাদ জানালে ভেস্তে যায় কাজ, পরে পাথর টেস্টের জন্য পাঠানো হয় ল্যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তাটির কাজের শুরু থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং রুল ফলো করা হয়নি। এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ না করে এলোমেলোভাবে কাজ করা হয়েছে। এস্টিমেট অনুযায়ী রাস্তার আগের নষ্ট ইট ফেলে দিয়ে নতুন ইট দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এছাড়াও ইট তুলে বালু দিয়ে তারপরে নতুন ইট বসিয়ে রড দিয়ে ঢালাই করার কথা কিন্তু করা হয়েছে ঠিক তার উল্টো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়, পাথর পরীক্ষা পরে করা হবে ঢালাইয়ের কাজ। সেই উদ্দেশ্য সোমবার বরিশাল সড়ক ও জনপদের মাঠ পর্যায়ের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে পাথরের স্যাম্পল পাঠানো হয় টেস্টের জন্য। স্যাম্পল হিসেবে এর আগে যে পাথর দিয়ে কাজ করা হয়েছে তা নেয়া হয় এক বস্তা এবং বর্তমান যে পাথর দিয়ে কাজ করা হবে সেগুলো নেয়া হয় এক বস্তা।

সড়ক ও জনপদের বরিশালের সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবর পাথরের দুটো স্যাম্পল টেস্ট করেন। টেস্টে বর্তমান ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ১৬.৪০ এবং আর এর আগে রাস্তাটির দুপাশের ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত পাথরের সাইজ ৯.২০।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যরাতে ঢালাইয়ের জন্য রড প্রস্তুতের কাজ চলমান অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিবসহ কিছু শিক্ষার্থী ঠিকাদারের কাছে জিজ্ঞাসা করেন নিম্নমানের পাথরের বিষয়ে।

এসময় আমেনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর সাথে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বাগ্‌বিতণ্ডার পরে আজ সকালে ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রেখে পাথরের স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানাগেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কথা ছিলো আজকে সকাল সাতটা থেকে শুরু হবে ঢালাইয়ের কাজ তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তা ভেস্তে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিসূত্র বলছে, রিপোর্ট পজিটিভ দেখানো হবে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিয়েছে এজন্য জাস্ট চোখো ধুলা দেয়ার জন্য পাথর নামেমাত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। বরিশাল সড়ক ও জনপদ ববি উপপ্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের দখলে, উনার সুবিধা ও চাহিদামতো কাজ হবে।

ভিজিল্যান্স টিমের কোনো সদস্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্য বলেন, আগে যে পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়েছে তার থেকে নিম্নমানের পাথর এবার নিয়ে আসা হয়েছে। উপপ্রধান প্রকৌশল আবেদিন এর মূল ওর নেতৃত্বে এগুলো হয়। মোটামুটি মানের একটি পাথর দিয়ে ঢালাই করা হবে আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম’

কাজের এস্টিমেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ঢালাইয়ে এ-গ্রেড কোয়ালিটি পাথর দেয়ার কথা। কিন্তু যে পাথর নিয়ে আসা হয়েছে তা দিয়ে ঢালাই করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে প্রকৌশল দপ্তর ও ঢালাইয়ের কাজ তদারকি করার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই পাথর দিয়ে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদীনের যোগসাজশে ঢালাই দিয়ে দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের গ্রেডহীন পাথর দিয়ে।

খোঁজ নিয়ো জানগেছে, ” প্রকৌশল দপ্তরের প্রকৌশলীরা নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ করতে রাজি না থাকলেও মুর্শিদ আবেদীন এই পাথর দিয়ে কাজ করাতে চাপ দিচ্ছেন।

ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব বলেন, ” এর আগেও এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। তখন প্রতিবাদ করি এবারও নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবাদ জানিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আীও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। এখন বাকিটা দেখা যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয়, তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ করলে শিক্ষার্থীরা মেনে নিবে না।

এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদিন বলেন, “টেন্ডার অনুযায়ী মানসম্পন্ন পাথর দিয়েই ঢালাইয়ের মিক্সিং তৈরি করা হবে। নিম্নমানের পাথর নয়, এসব পাথর দিয়ে ক্যান্টনমেন্টেও কাজ চলছে। কাজের গুণগত মান বজায় রাখবে বলে ঠিকাদার আমাকে নিশ্চিত করেছেন। আমি সকালে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কাজে বাঁধা দেয়নি। পাথরের মান নিয়ে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযোগ ছিলো পরে আমি নির্দেশ দেয় ল্যাব টেস্ট করাতে। টেস্টের ফলাফল পজেটিভ এই পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়া যাবে। ফলাফল আসতে বিকেল হয়ো যাওয়ায় মিস্ত্রি সব চলে গেছে এজন্য বলেছি ঈদের পরে ঢালাইয়ের কাজ করার জন্য।”

আরও পড়ুন