
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রথম খালের খনন কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হলো।
সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুরে পৌঁছে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে কোদাল তুলে খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নেন। এ উপলক্ষে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হলেও সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন করা হবে। এর ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান উদ্যোগটি টেকসই ও আধুনিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সেই সময় তিনি স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচিও চালু করেছিলেন।
সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই খাল খনন কর্মসূচি শুধু কৃষি খাতেই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খাল খননের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি সেচ সুবিধা বাড়ার কারণে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।









