শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে গার্মেন্টস খাত

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - RMG
গার্মেন্টসে কাজ করছে নারী ও পুরুষ/ছবি: সংগৃহীত

২৪’এর ছাত্র-তরুণদের অভ্যুত্থানের পর গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানিখাত—গার্মেন্টস শিল্প।

বিশ্ববিখ্যাত বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। তবে বর্তমানে শিল্পটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত ছয় মাস ধরে রফতানি কমতির দিকে, যা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রফতানি হ্রাসের পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে—যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে বাংলাদেশি পণ্যের দাম তুলনামূলক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক আস্থা দুর্বল করেছে।

তবে সাম্প্রতিক মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবুও এটি ভবিষ্যতে রফতানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন সবার দৃষ্টি নতুন সরকারের দিকে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো চালু করবে, ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, দেশের অর্থনীতিকে বস্ত্রশিল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে শিল্পবৈচিত্র্য গড়ে তোলা হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই বস্ত্রখাতের টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে বিবেচিত এই খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নতুন সরকারের নীতি ও পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে—গার্মেন্টস শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াবে, নাকি সংকট আরও গভীর হবে।

আরও পড়ুন