রবিবার ৫ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি সংকট “মরার উপর খাড়ার ঘা”-এর পরিস্থিতি তৈরি করেছে: অর্থমন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Energy crisis has created a situation of a death blow-Finance Minister
জ্বালানি সংকট “মরার উপর খাড়ার ঘা”-এর পরিস্থিতি তৈরি করেছে: অর্থমন্ত্রী/ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট “মরার উপর খাড়ার ঘা”-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এটি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব পড়ছে খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সংকট কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক ইস্যু। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ইতোমধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে এখনো দাম বাড়ানো হয়নি, তবে কতদিন তা ধরে রাখা সম্ভব হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস এবং আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি’ পর্যালোচনার লক্ষ্যে ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যদি সরকারি তহবিল ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এলডিসি গ্রাজুয়েশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করতে পারলে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হবে। তখন বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল অ্যাসেম্বলি) উপস্থাপন করা হবে। তবে এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি বলে এই মুহূর্তে গ্রাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন