
বিদেশ যাওয়ার আগে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন, গন্তব্য দেশের আইন-কানুন, কর্মপরিবেশ ও কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে ধারণা দিতে চাঁদপুরে বিদেশগামী কর্মীদের তিন দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিদেশগামী কর্মী এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সনদপত্র পেয়েছেন।
চাঁদপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় (ডিইএমও) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিইএমও কার্যালয় সূত্র জানায়, বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়াই এ ওরিয়েন্টেশন কোর্সের মূল উদ্দেশ্য। তিন দিনের প্রশিক্ষণে জেলা পর্যায়ে অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কেও কর্মীদের ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেরিন টেকনোলজি, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়।
এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, নিরাপদ আর্থিক লেনদেন, গন্তব্য দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া, কর্মপরিবেশ এবং কর্মস্থলে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি অভিবাসী আইন-২০১৩, বিদেশে কর্মীদের অধিকার ও দায়িত্ব এবং আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিদেশে কোনো সমস্যায় পড়লে কোথায় সহযোগিতা পাওয়া যাবে, কীভাবে অভিযোগ করতে হবে এবং অভিযোগের প্রতিকার পাওয়ার প্রক্রিয়াও প্রশিক্ষণে জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকের কুফল, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুফল এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের ভূমিকা ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সৌদি আরবে মেডিকেল স্টাফ হিসেবে যেতে প্রস্তুতি নেওয়া বাগাদীর নাসরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের প্রশিক্ষণে বিদেশে গিয়ে নিরাপদ থাকার উপায়, দেশটির নিয়ম-কানুন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন।
চাঁদপুর ডিইএমও’র সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে একজন কর্মীর সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ কারণে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্সটি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিদেশগামী কর্মী এ ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নিয়েছেন। বিদেশগামী কর্মীরা যেন সঠিক তথ্য নিয়ে বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশে যেতে পারেন এবং সেখানে গিয়ে আইন ও কর্মস্থলের নিয়ম মেনে চলতে পারেন—এটাই কোর্সের অন্যতম লক্ষ্য।
কার্যালয়ের কার্যক্রমের সময়ানুবর্তিতা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মীরা বের হয়ে যান। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন।








