
তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে একদিকে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, অন্যদিকে বড় ধাক্কা খাচ্ছে পর্যটন শিল্প।
পর্যটক টানতে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও কোনোভাবেই পর্যটকদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই চেকআউট করে শহর ছাড়ছেন।
পর্যটকদের অভিযোগ, দিনে ৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। দিনের বেলায় রুমে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠছে, আর রাতে ঘুমের মধ্যেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভ্রমণের আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে।
রবিবার সকালে সৈকতপাড়ের একটি তারকামানের হোটেলে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট বন্ধ হয়ে পড়ে, আতঙ্কে পড়েন পর্যটকরা। জেনারেটর চালু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও সেটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটকরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন। অনেকেই ২-৩ দিনের ট্যুর একদিনেই শেষ করে চলে যাচ্ছেন। ফলে বেশিরভাগ হোটেল প্রায় ফাঁকা।
একটি মাঝারি মানের হোটেলে প্রতিদিন ১০০-১৫০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে জেনারেটর চালাতে। এতে ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চাপে।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। পর্যটক না থাকায়:
- ট্যুরিস্ট জিপ ও ইজিবাইক চালকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন
- বার্মিজ পণ্যের দোকান ও হকারদের বিক্রি কমে গেছে
- ডাব বিক্রেতা ও সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরা লোকসানে
একজন ব্যবসায়ী জানান, যেখানে আগে দিনে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১০ হাজার টাকায়।
শুধু পর্যটন এলাকা নয়, শহরসহ উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও ও চকরিয়ায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
- ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত
- শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা
- চিকিৎসা সেবায় ঝুঁকি
- ফ্রিল্যান্সারদের কাজেও বড় ধরনের ক্ষতি
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। হোটেল-মোটেল জোনে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৩০-৪৫ মেগাওয়াট।
বর্তমানে প্রায় ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পুরো জেলায় দৈনিক চাহিদা ৭০-৭৫ মেগাওয়াটের মতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে পর্যটন শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনজীবনে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।








