সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গৌরবের বিজয় দিবস আজ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির চিরগৌরবের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল বীর বাঙালি। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নামের এক নতুন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে এই দিনেই। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় লাল-সবুজের পতাকা।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিশেষ বাণী দিয়েছেন।

তিনি তাঁর বাণীতে বলেন, “এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে নবযাত্রা সূচিত হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে আমরা পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বাদ। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি একটি স্বাধীন জাতিসত্তা ও এই লাল-সবুজের পতাকা।”

এই গৌরবময় দিনে তিনি দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে বিজয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, “আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, সেই সব বীর শহীদদের। তাঁদের আত্মদান আমাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা ও সাহস জোগায় এবং সকল সংকটে-সংগ্রামে মুক্তির পথ দেখায়।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বারবার স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।

তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি উন্নত ও সুশাসিত বাংলাদেশের শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে যে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, দেশের আপামর জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আজ আমরা সেই কর্মযজ্ঞের সফল পরিসমাপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়বিচার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে।

বাণীর শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আসুন, বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলে মিলে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে।”

এদিকে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালনে জাতীয়ভাবে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সূচনা হবে।

আরও পড়ুন