
কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার (১ আগস্ট, ২০২৬) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের বিপণন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই মাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য শীত সহনশীল ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও কর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। এতে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।
প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও দেশে অধিক পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






