
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। সে হিসাবে এবার কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সকাল ১০টায় ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপর নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে কুমিল্লা বোর্ড রয়েছে মাঝামাঝি অবস্থানে। এবার ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
পাস ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছাত্রীরা
এবারের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
সারাদেশে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। এবার মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাস ৬৪.০৫ শতাংশ
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় এবার ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দাখিলে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
পরীক্ষা শেষের প্রায় তিন মাস পর ফল
গত ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জুলাই মাসে দেশব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকে
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে এ আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।







