মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে মতবিনিময়

কুবি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Discussion on strengthening security in the area adjacent to Comilla University
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে মতবিনিময়/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।

সভায় কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কুমিল্লার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সভা শুরু হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা, মাদক, ছিনতাই, ইভটিজিং, সড়ক যোগাযোগ ও নাগরিক সেবা নিয়ে আলোচনা করেন অংশীজনরা।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “আমার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা আপনারা নিশ্চিত করুন। শতভাগ নিশ্চয়তা হয় তো করা সম্ভব নয়, এটা আমিও জানি। কিন্তু আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আপনাদের ওপর অর্পিত সরকারি ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে যদি সাড়া দিই, আমি মনে করি পরিস্থিতির অনেকটুকু উন্নয়ন আমরা ঘটাতে পারব।”

তিনি বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা দরকার। এটি শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদ এবং শালবন বিহারের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তার স্বার্থেও বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করা দরকার।”

উপাচার্য শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ বেলতলী আন্ডারপাসের কাজ দ্রুত শেষ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নেমে আসা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্রোচ সড়ক সংস্কারের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে শিফটিংয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বেলতলী মোড় থেকে জেলখানা বাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য দ্রুত ডিপিপি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ক্যাম্পাস ও আশপাশে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান উপাচার্য। পাশাপাশি বহিরাগত মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় মেসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, “আমরা কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, মাদক এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা পাঁচ দফায় অভিযান পরিচালনা করি। এতে প্রায় ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করি।”

তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা ফেসবুকে পোস্ট না দিয়ে ৯৯৯-এ কল দেবেন। তখন অফিসার যেতে বাধ্য। আপনারা অভিযোগ করলে তারা দৃঢ়চিত্তে ডিউটি পালন করবে। আমরা চেষ্টা করছি আপনাদের নিরাপত্তার জন্য।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন অংশীজনরা। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন