
কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে কুমিল্লাজুড়ে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানের পঞ্চম ধাপে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও ডিবির যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অভিযান চলে শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে পাঁচ ধাপে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের চার ধাপে আটক ১ হাজার ১৩০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কাউকে বাসা থেকে কিংবা রেস্তোরাঁয় বসে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়নি। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার সময় রাস্তায় বা বাড়ির বাইরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে—এমন ব্যক্তিদেরই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।
১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করে জেলা পুলিশ।
ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী তুহিনসহ দুই কিশোর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আরেক আসামি সিয়ামকে তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মাদক কেনাবেচা ও সেবন, অবৈধ মোটরসাইকেলের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো গ্যাং সদস্যকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।










