
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে হাবিবুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, মৃতের দুই ভাই মিজানুর রহমান ও হাছান আলী গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, সোমবার (৩টা) দুপুরে আব্দুল জলিলের বাড়িতে এই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল হোসেন খোকন ও গ্রাম সর্দার ছালামত উল্যাহসহ আরও কয়েকজন এই বৈঠক পরিচালনা করছিলেন।
বৈঠক চলাকালীন সময়ে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৩) লাঠি দিয়ে হাবিবুর রহমান ও তার ভাইদের ওপর হামলা চালায়। লাঠির আঘাতে হাবিবুর রহমানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। আহত মিজানুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুর রহমান মারা যান।
নিহত হাবিবুর রহমানের মেয়ে মায়া আক্তার জানান, আব্দুল্লাহ তার বাবাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। মায়া আশংকা প্রকাশ করেন যে, হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। তাই, তিনি পুলিশের কাছে দ্রুত তাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত হাবিবুর রহমানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।