শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

কুমিল্লার লাকসামে এতিমখানার ১২টি গাভী লুট, বন্ধের পথে মাদরাসার আয়ের উৎস

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

কুমিল্লার লাকসামে এতিমখানার ১২টি গাভী লুট, বন্ধের পথে মাদরাসার আয়ের উৎস/ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লাকসামে একটি এতিমখানার গরুর খামারে গত তিন মাসের ব্যবধানে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে শিক্ষক, কেয়ারটেকার ও ছাত্রদের জিম্মি করে মোট ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি গাভী লুট করে নিয়ে গেছে। সর্বশেষ ঘটনায় শিক্ষক, কেয়ারটেকার এবং ছাত্রসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের বড়বাম আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানায় সম্প্রতি এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

মামলার বাদি মাদরাসা শিক্ষক ইমরান হোসাইন জানান, গত শুক্রবার ভোরে একদল ডাকাত দুটি পিকআপ গাড়ি নিয়ে মাদরাসায় হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ফেলে এবং শিক্ষকদের মারধর করে তাদের মোবাইলফোনগুলো ছিনিয়ে নেয়।

এরপর ডাকাতরা মাদরাসার পাশের গরুর খামারে প্রবেশ করে কেয়ারটেকার উৎসব হোসেনকে বেঁধে ফেলে। একে একে পাঁচটি গরু পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় তারা। একপর্যায়ে মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় শিক্ষক, কেয়ারটেকার ও ছাত্রসহ আটজন আহত হন।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শরীফুল আলম খন্দকার অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানান, “এ গরু খামারের আয়ের অর্থ দিয়েই মাদরাসাটি পরিচালনা করা হতো।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান ডাকাতির তিন মাস আগে এই খামারে আরও ৭টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। দুই দফায় মোট ১২টি গাভী লুট হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারের বড় গরুগুলো লুট হয়ে যাওয়ায় একপাশ এখন খালি পড়ে আছে। বর্তমানে খামারটিতে মাত্র ১১টি গরু রয়েছে। ঘটনাস্থলে ডাকাত দলের আনা তুষের বস্তা পড়ে আছে, যা ব্যবহার করে তারা গরুগুলোকে ভ্যানে ওঠানোর কাজে লাগিয়েছিল।

তিন মাসের ব্যবধানে একই স্থানে দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত লুট হওয়া গরু উদ্ধার এবং ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, লুট হওয়া গরু উদ্ধার এবং ডাকাতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক ইমরান হোসাইন বাদি হয়ে লাকসাম থানায় একটি মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন