
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় একটি মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে শর্ট সার্কিটের ঘটনায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে একই প্রকল্পে তিন দফায় এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ ও আতঙ্কে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে প্রথম ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি। সে সময় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে ২০-২৫ মণ মাছ মারা যায়। পরে ১৯ মার্চ একইভাবে প্রায় ২০০ মণ মাছ মারা যায়। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে আবারও তার ছিঁড়ে পড়লে ১৫০ থেকে ২০০ মণ মাছ মারা যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন পুকুরে রুই, কাতল, গ্লাসকার্প, মৃগেল ও সিলভার কার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। অনেক মাছ ইতোমধ্যে পচে গেছে, আবার কিছু মাছ অর্ধমৃত অবস্থায় পানিতে ভাসছে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রকল্পের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে আছে পুরোনো বিদ্যুতের লাইন ও জরাজীর্ণ খুঁটি।
শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম জানান, গভীর রাতে তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাছগুলো অস্বাভাবিকভাবে লাফাতে শুরু করে। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলে ১৫-২০ মিনিট পর লাইন বন্ধ করা হয়। এর মধ্যেই ব্যাপক মাছ মারা যায়।
প্রকল্পটির পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার অভিযোগ করে বলেন, “এটি তৃতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটলো। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা শুধু তার মেরামত করে, কিন্তু ২৫-৩০ বছরের পুরোনো খুঁটি ও লাইন পরিবর্তন করে না। ফলে একই সমস্যা বারবার ঘটছে।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত টিম পাঠানো হয়েছে এবং লাইন মেরামত করা হয়েছে। পুরোনো খুঁটির জায়গায় নতুন খুঁটি স্থাপনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক জানান, বিদ্যুতের খুঁটির ওপর বিভিন্ন পাখি বসার কারণে দুই তারের মধ্যে শর্ট সার্কিট ঘটে এবং তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে যায়। এতে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।









