
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)। মোরছালিন স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত নবীর হোসেনসহ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে আগরতলার একটি হাসপাতালে নবীর হোসেন মারা যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের দাবি, দুজনের মরদেহ বর্তমানে ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান বলেন, রাতের দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, সীমান্তে গুলির ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর তিনি স্থানীয়ভাবে জেনেছেন এবং নিহত নবীর হোসেনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িতে ছিলেন না। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, বিএসএফ মরদেহ নিয়ে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে আহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।








