
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ওমরাহ। হজের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বছরের প্রায় যেকোনো সময়ই ওমরাহ পালন করা যায়। তবে ৯ থেকে ১৩ জিলহজ—এই পাঁচ দিনে ওমরাহ পালন করা মাকরুহ বলে উল্লেখ রয়েছে ফিকহগ্রন্থে।
শরিয়তের পরিভাষায়, হিল (হারামের সীমানার বাইরে কিন্তু মিকাতের ভেতরের এলাকা) অথবা মিকাত থেকে ইহরামের নিয়ত করে বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ এবং মাথার চুল ফেলে দেওয়া বা ছোট করাকে ওমরাহ বলা হয়।
ওমরাহর ফরজ ও ওয়াজিব
ওমরাহর দুটি ফরজ রয়েছে:
- ইহরাম
- তাওয়াফ
ওমরাহর দুটি ওয়াজিব:
- সাঈ করা
- মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা
ইহরামের বিধান
ইহরামের ফরজ:
- নিয়ত করা
- তালবিয়া পাঠ করা
ইহরামের ওয়াজিব:
- মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা
- নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা
তাওয়াফের নিয়ম
তাওয়াফের ফরজ তিনটি:
- নিয়ত করা
- বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা
- নিজে তাওয়াফ সম্পন্ন করা
তাওয়াফের ওয়াজিব ছয়টি:
- শরীর পাক থাকা
- হেঁটে তাওয়াফ করা
- হাতিমের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করা
- সাত চক্কর পূর্ণ করা
- হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করা
- শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায়
তাওয়াফের সুন্নত
- হাজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করে শুরু
- প্রথম তিন চক্করে রমল করা (পুরুষদের জন্য)
- সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা
- তাওয়াফ শেষে জমজমের পানি পান
সাঈর বিধান
সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাতবার চলাচল করাকে সাঈ বলা হয়।
- সবুজ বাতির নিচে পুরুষরা দৌড়াবেন
- নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন
সাঈর ওয়াজিব:
- ওজর না থাকলে হেঁটে সাঈ করা
- সাত চক্কর শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা
ওমরাহ পালনের ধাপ
ওমরাহ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়:
তাওয়াফ → নামাজ → জমজম পান → সাঈ → মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা
নারীদের ইহরাম
নারীদের জন্য ইহরামের বিধান কিছুটা ভিন্ন।
- নির্দিষ্ট পোশাক (ইজার-রিদা) বাধ্যতামূলক নয়
- যেকোনো শালীন পোশাক পরা যাবে
- তবে অবশ্যই পর্দা বজায় রাখতে হবে এবং শরীরের গঠন যেন প্রকাশ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে









