
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসরত মানুষের জন্য এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা যেন আনন্দের বদলে বেদনার বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক পরিবার এবার কোরবানির ঈদে কোনো ধরনের সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিজেদের নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে কোরবানি দেওয়া বা ঈদের আনন্দ উদযাপন তাদের কাছে এখন বিলাসিতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা হাজেরা বেগম বলেন, “আমাদের মতো গরিব ও অসুস্থ মানুষের জন্য যদি সরকারিভাবে একটা গরুর ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারতাম। কিন্তু এবার কোনো উদ্যোগই দেখছি না।”
জানা গেছে, মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্র, কারিমিয়া আশ্রয়কেন্দ্রসহ আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪০০ পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙন, টানা বৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সংকটে তাদের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একবার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। সেই সহায়তা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য অনেক বড় স্বস্তি ছিল। তবে এরপর আর এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের দাবি, অন্তত ঈদ উপলক্ষে সরকার কিংবা বিত্তবানদের পক্ষ থেকে সহায়তা পেলে শিশুদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটত।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে এবারের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো সহায়তা কার্যক্রম নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৪৬৫টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এসব পরিবারকে সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।








