মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

আমার স্ত্রীও একটা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: এলজিআরডি মন্ত্রী

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

আমার স্ত্রীও একটা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: মির্জা ফখরুল/ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যেক নারী একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্যই হচ্ছে নারীদের ক্ষমতায়ন করা। এমনকি অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেব-এমনকি আমার স্ত্রীও একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা মাঠে ৫৯০ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেক পরিবারের প্রধান যিনি নারী, তিনি একটি করে কার্ড পাবেন। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নারীদের ক্ষমতায়ন করা এবং তাদের হাতে একটি শক্তি তুলে দেওয়া। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সরকারে এলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কথা রেখেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে এই কার্ড প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু সময়ের ব্যাপার।”

মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি শক্তি বা ক্ষমতার প্রতীক। এই কার্ড থাকার মাধ্যমে নারীরা বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন। এর ফলে সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং পুরুষরাও তাদের গুরুত্ব দেওয়া শুরু করবে।

তিনি বলেন, “সকলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তিনি আমাদের এই এলাকা বেছে নিয়েছেন।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকারে আসার মাত্র ২২ দিনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ থেকে খাল খননের কাজ শুরু হবে। বর্ষা মৌসুমে যে পানি জমে, তা সংরক্ষণ করে খরার সময় কাজে লাগানো হবে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, সেচ ও বীজ কিনতে পারবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছর দেশে আইনকানুন ছিল না। আমাদের নানা ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আগে টাকা ছাড়া কার্ড পাওয়া যেত না। এবার কোনো টাকা পয়সা লাগেনি। হতাশ হবেন না, সবাইকে কার্ড দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, নারী জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপাররাও (এসপি) ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তারা কী কাজে এটি ব্যবহার করবেন, সেটি পরে দেখার বিষয়। জনগণের শক্তির কাছে কোনো শক্তিই বড় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এটিকে তার শেষ নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছেন। তাদের এই ঋণ তিনি কখনো শোধ করতে পারবেন না। তবে কিছু কাজ করে যেতে চান।

তিনি বলেন, “২০২৭ সালে এখানে মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দরের কাজও শুরু করা হবে।”

এছাড়া বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকের রোষানল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করার অঙ্গীকারও করেন।

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানাসহ বিএনপির নেতাকর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন