
গ্রীষ্মের বাজারজুড়ে এখন রসালো নানা জাতের আমের সমারোহ। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি কিংবা ফজলি—প্রতিটি আমই স্বাদ ও ঘ্রাণে অনন্য। তাই আমকে বলা হয় ফলের রাজা। তবে আমপ্রেমীদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—আম খেলে কি ওজন বেড়ে যায়?
পুষ্টিবিদদের মতে, এ ধারণার পেছনে কিছুটা সত্য থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে খাওয়ার পরিমাণ এবং সামগ্রিক জীবনযাপনের ওপর। আমে প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালোরি থাকলেও এটি ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি সমৃদ্ধ উৎস।
আন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঝারি আকারের একটি আমে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ ক্যালোরি এবং প্রায় ৪৫ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকে। ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে শক্তি জোগায়। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হলে তা চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। বিশেষ করে আম দিয়ে তৈরি মিল্কশেক, আইসক্রিম, কাস্টার্ড বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো বিভিন্ন ডেজার্ট ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরই একটি অংশ। আমে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ (ফাইবার) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের জন্য দিনে একটি মাঝারি আকারের আম বা এক থেকে দুই কাপ কাটা আম খাওয়া যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে আম খেলে শরীর পুষ্টি পায়, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও জমা হয় না।
আন্দবাজারে’র ওই প্রতিবেদনে ফিটনেস কোচ নমন সোলাঙ্কির মতে, আম ওজন কমানোর পথে কোনো বাধা নয়। তবে এটি কীভাবে খাওয়া হচ্ছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুধ ও চিনি মিশিয়ে শেক তৈরি করে কিংবা অতিরিক্ত চিনি দিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে ক্যালোরির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। অন্যদিকে পরিমিত পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে আম খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে না।
কীভাবে আম খেলে উপকার বেশি?
- আম ফল হিসেবেই খাওয়া ভালো, শেক হিসেবে নয়।
- দিনে একটি মাঝারি আকারের আম খাওয়া যেতে পারে।
- ভরপেট খাবারের পর না খেয়ে স্ন্যাক্স হিসেবে আম খাওয়া ভালো।
- অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে আম খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আম খাওয়ার কারণে ওজন বাড়ে না। বরং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, মোট ক্যালোরি গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রাই ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রধান নিয়ামক।










