সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আজ বছরের দীর্ঘতম রাত

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

প্রতীকি ছবি/পেক্সেল

আজ রোববার, ২১ ডিসেম্বর। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে আজ বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত এবং সবচেয়ে ছোট দিন দেখা যাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে আজ উল্টো চিত্র—সেখানে আজ বছরের দীর্ঘতম দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত।

এই দিনটির মধ্য দিয়েই শুরু হলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শীত বা শীত অয়নান্ত।

শীত অয়নান্ত আসলে কোনো পূর্ণ দিন নয়, এটি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টা ৩ মিনিটে এই অয়নান্ত ঘটতে যাচ্ছে। এই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি দূরে হেলে থাকে।

এই দিনে সূর্য অবস্থান করে মকরক্রান্তি রেখার ঠিক ওপর। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি পড়ে, সেখানে দিন হয় সবচেয়ে বড়। বিপরীতে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো পড়ে সবচেয়ে কম, যার কারণে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কাত হয়ে আছে। এই কাত থাকার কারণেই পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব এর জন্য দায়ী নয়।

বিজ্ঞানীরা জানান, জানুয়ারি মাসে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। তবুও তখন উত্তর গোলার্ধে শীত থাকে, যা প্রমাণ করে যে ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ পৃথিবীর এই কাত হয়ে থাকা।

শীত অয়নান্তের পর সূর্য ধীরে ধীরে বিষুবরেখার দিকে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করে। এই যাত্রা চলে প্রায় ছয় মাস। এরপর আসে গ্রীষ্ম অয়নান্ত, যখন সূর্য থাকে কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর এবং তখন উত্তর গোলার্ধে দেখা যায় বছরের সবচেয়ে বড় দিন।

শীত ও গ্রীষ্ম অয়নান্তের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে দুটি বিষুব—একটি মার্চে এবং আরেকটি সেপ্টেম্বরে। এই সময় দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। মার্চের বিষুব দিয়ে শুরু হয় বসন্ত এবং সেপ্টেম্বরের বিষুব দিয়ে শুরু হয় শরৎ ঋতু।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক থেকে শীত অয়নান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে সূর্য আকাশে বছরের সবচেয়ে নিচু অবস্থানে থাকে। তবে এটি সূর্য ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময়ের চূড়ান্ত দিন নয়।

আরও পড়ুন