
অন্যায় আদেশকে সাহসের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে মজলুম জনতার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো স্বার্থান্বেষী অ্যাজেন্ডা বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হওয়া যাবে না।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনে কোনো স্বার্থান্বেষী অ্যাজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হবেন না। সাহসী মনে অন্যায় আদেশকে ‘না’ বলা শিখুন। মজলুমের পক্ষে অবস্থান নেবেন, মজলুমের পক্ষে কাজ করবেন।”
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই আনসার ও ভিডিপি বাহিনী সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস (STDMS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনের সময় সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সার্বিক নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে।
নির্বাচনে অনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।”
দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না—রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয় কিংবা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। এ বাহিনীর সদস্যরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত রাষ্ট্রীয় কর্মচারী, যাদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা।
অনুষ্ঠানে সেরা নৈপুণ্য ও পেশাদারিত্বের জন্য চারজন নবীন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









