
‘বয়স শুধুই একটি সংখ্যা’ এই বহুল প্রচলিত কথার বাস্তব উদাহরণ যেন বাংলাদেশের করপোরেট জগতের পরিচিত মুখ রুবাবা দৌলা। পঞ্চাশের কোটা পেরিয়েও তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং ফিটনেস অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সুস্থ ও তারুণ্যময় জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন। কঠোর ডায়েট বা দীর্ঘ সময় জিমে কাটানোর চেয়ে মানসিক সুস্থতা, পরিমিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
সুস্থ থাকার জন্য রুবাবা দৌলার ৬ অভ্যাস
১. ইতিবাচক মানসিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
রুবাবার মতে, সুস্থতার শুরু শরীর নয়, মন থেকে। জীবনের যেসব বিষয় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত রাখে। স্ট্রেসমুক্ত জীবনই তার ফিট থাকার অন্যতম ভিত্তি।
২. মেডিটেশন ও নিজের জন্য সময়
তিনি নিয়মিত মেডিটেশন করেন এবং প্রতিদিন কিছুটা সময় একান্ত নিজের জন্য রাখেন। এই সময় তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়, আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করে এবং কাজের চাপ সামলাতে সহায়তা করে।
৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
রুবাবা চিনি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তার খাদ্যতালিকায় থাকে সালাদ, প্রচুর সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। অফিসের দিনগুলোতে তিনি হালকা দুপুরের খাবার খান এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করেন।
তবে সপ্তাহে একদিন তিনি নিজের পছন্দের খাবারও উপভোগ করেন। শুক্রবার মায়ের হাতের ভর্তা-ভাতই তার বিশেষ ‘চিট মিল’।
৪. নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা
শৈশব থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রুবাবা। হকি, ফুটবল, শুটিং ও ব্যাডমিন্টন খেলেছেন তিনি। বর্তমানে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলেন এবং আবারও গলফ খেলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা শরীর ও মন— দুটোকেই সতেজ রাখে।
৫. গানেই মানসিক প্রশান্তি
ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি গানকে সঙ্গী করেন। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি ও গজল চর্চা তার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। গান গাওয়া কিংবা শোনা তাকে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে।
৬. পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব
রুবাবা দৌলার মতে, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের দেওয়া শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার শিক্ষা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই জীবনদর্শনই আজও তাকে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনে প্রাণবন্ত থাকতে সহায়তা করছে।
যা বলছে এই জীবনধারা
রুবাবা দৌলার জীবনযাপন থেকে স্পষ্ট, সুস্থ ও ফিট থাকতে শুধু কঠোর ব্যায়াম বা ডায়েটই যথেষ্ট নয়। ইতিবাচক মানসিকতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক প্রশান্তি এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এই কয়েকটি অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হতে পারে।











