বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাতিল হতে যাচ্ছে যে ৬ ধরনের দলিল

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

Rising Cumilla -6 types of documents that are going to be abolished by June 2026
২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাতিল হতে যাচ্ছে যে ৬ ধরনের দলিল/ছবি: সংগৃহীত

স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জালিয়াতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ছয় ধরনের দলিল সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের দীর্ঘদিনের ভূমি জালিয়াতি, দ্বৈত দলিল এবং ওয়ারিশ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র মারফত জানা গেছে, যেসব দলিলে জালিয়াতি, প্রতারণা বা আইনগত ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো আর কোনোভাবেই বৈধ দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।

এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সারাদেশে ‘ডিজিটাল ভূমিজরি বিডিএস’ (BDLand System) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। এই ডিজিটাল সিস্টেমে কেবলমাত্র যাচাই করা বৈধ দলিলগুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে, যা ভূমি রেকর্ড ও দলিল ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করে তুলবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় যে ছয় ধরনের দলিল বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে, সেগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো:

১. হেবা দলিল: প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে অথবা অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তিকে ব্যবহার করে নেওয়া টিপসসহীহ যুক্ত হেবা দলিলগুলো বাতিল ঘোষণা করা হবে।

২. ওসিয়তনামা দলিল: আইন অনুযায়ী ওসিয়ত করা যায় সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি এবং তা অবশ্যই ওয়ারিশের বাহিরের কারও নামে। এই কঠোর নিয়ম অমান্য করে প্রস্তুত করা ওসিয়তনামা দলিলগুলো বাতিল করা হবে।

৩. রেজিস্ট্রেশনবিহীন দলিল: রেজিস্ট্রেশন না করেই যেসব দলিলে মালিকানা দাবি করা হয়েছে, সেগুলো আর বৈধ বলে গণ্য হবে না এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে।

৪. জাল দলিল: প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে সুনিশ্চিতভাবে তৈরি করা সকল জাল দলিল শনাক্ত করে বাতিল করা হবে। এই ধরনের দলিলের মাধ্যমে অর্জিত মালিকানাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।

৫. ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত দলিল: রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে যারা অবৈধভাবে জমির মালিকানা নিয়েছেন, তাদের দলিলগুলো বিশেষ যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল করা হবে।

৬. অংশের চেয়ে বেশি বিক্রিত দলিল: যারা পারিবারিক বা যৌথ সম্পত্তিতে নিজেদের আইনি অংশের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমি বিক্রি করেছেন, তাদের সেই অতিরিক্ত অংশের দলিলও বাতিল করা হবে। এক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত ওয়ারিশদের অংশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ভূমি বিশেষজ্ঞরা এই সরকারি উদ্যোগকে সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের দীর্ঘদিনের ভূমি জালিয়াতি, দ্বৈত দলিল ও ওয়ারিশ জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে, যাতে জুলাই মাস থেকে জনগণ সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ভূমি রেকর্ড ও দলিল ব্যবস্থাপনার সুফল ভোগ করতে পারে।

আরও পড়ুন