
দেশের প্রায় ৭৩ শতাংশ খানা বা পরিবারে বর্তমানে স্মার্টফোন রয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী পরিবারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ফেনী, এরপরই রয়েছে কুমিল্লার অবস্থান ।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহারে ঢাকাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে ৮৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন থাকলেও ঢাকা বিভাগে এ হার ৮২ শতাংশ। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার ২০২৪–২৫’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ জরিপে এই প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি।
জরিপ অনুযায়ী, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী পরিবারের দিক থেকে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফেনী জেলা। এর পরেই রয়েছে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর।
অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, শেরপুর, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়।
যদিও স্মার্টফোন ব্যবহারে কিছু অঞ্চলে পিছিয়ে রয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। এখানে ৬৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার ৬৫ শতাংশ। সারাদেশে মোট ৫৫ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।
সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন বিবিএসের কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ।
জরিপে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
দেখা গেছে, দেশের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয় করে। তবে ইন্টারনেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য—এই উদ্দেশ্যে ৬৪ শতাংশ ব্যবহার ঘটে। এছাড়া ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে খেলাধুলার তথ্য জানার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ মানুষ কপি-পেস্ট করতে পারে। তবে মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফাইল স্থানান্তর করতে সক্ষম।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন এবং মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।








