
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন নির্বাচনি আইনে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে, যার ফলে এখন থেকে হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে শুধু প্রার্থিতা বাতিল নয়, ভোটগ্রহণের পরেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ইসি মনে করছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য গোপন বা বিকৃত করার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে এবং ভোটাররা প্রার্থীদের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানার সুযোগ পাবেন।
হলফনামায় বাধ্যতামূলক ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে হলফনামায় নিম্নোক্ত ১০টি তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থাও করেছে ইসি—
১. প্রার্থীর জন্ম তারিখ ও বর্তমান বয়স
২. সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (সনদ না থাকলে নম্বরপত্র বা স্বাক্ষরজ্ঞানের তথ্য)
৩. প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে চলমান কোনো ফৌজদারি মামলার বিবরণ
৪. অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার রেকর্ড ও রায়ের তথ্য
৫. প্রার্থীর বর্তমান পেশার বিস্তারিত বিবরণ
৬. প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা
৭. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস (আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ)
৮. প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী
৯. অতীতে সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে অর্জনের বিবরণ
১০. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত একক বা যৌথ ঋণের তথ্য
কাউন্টার এফিডেভিট ও সম্পূরক এফিডেভিটের সুযোগ
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাধারণ জনগণকেও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
যদি কোনো ব্যক্তি শপথনামার মাধ্যমে দাবি করেন যে কোনো প্রার্থীর হলফনামায় দেওয়া তথ্য সঠিক নয় এবং সেই দাবির পক্ষে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তা ‘কাউন্টার এফিডেভিট’ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা এই কাউন্টার এফিডেভিট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
এ ছাড়া, কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নিজেও ‘সম্পূরক এফিডেভিট’ দাখিলের সুযোগ পাবেন।
তথ্য প্রচার ও মনোনয়ন যাচাইয়ের কঠোর ব্যবস্থা
হলফনামার মূল কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে এবং একটি কপি কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ্যে টাঙানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে হাট-বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এসব তথ্য লিফলেট আকারে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এবার মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তথ্য যাচাই করা হবে, যাতে কোনোভাবেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।
নির্বাচনী সময়সূচি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ৩০০ আসনে প্রায় ২ হাজার ৫ শত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে এবং পরদিন ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।









